| বঙ্গাব্দ

চীনের হাইড্রোজেনভিত্তিক 'ক্লিন এনার্জি' বোমার সফল পরীক্ষা | বিধ্বংসী সামরিক প্রযুক্তি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 22-04-2025 ইং
  • 3762950 বার পঠিত
চীনের হাইড্রোজেনভিত্তিক 'ক্লিন এনার্জি' বোমার সফল পরীক্ষা | বিধ্বংসী সামরিক প্রযুক্তি
ছবির ক্যাপশন: চীনের হাইড্রোজেনভিত্তিক 'ক্লিন এনার্জি' বোমার সফল পরীক্ষা | বিধ্বংসী সামরিক প্রযুক্তি

হাইড্রোজেনভিত্তিক ‘ক্লিন এনার্জি বোমা’র সফল পরীক্ষা চালাল চীন: পরমাণুবিহীন হলেও বিধ্বংসী ক্ষমতা

বেইজিং, এপ্রিল ২০২৫ — বিশ্বে নতুন করে সামরিক প্রযুক্তির এক বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে চীন। সম্প্রতি দেশটি সফলভাবে পরীক্ষা চালিয়েছে এক ধরনের হাইড্রোজেনভিত্তিক বিস্ফোরক বোমা, যেটি পরমাণুবিহীন হলেও অসাধারণ বিধ্বংসী ক্ষমতা ধারণ করে। এই বোমাটি তৈরি হয়েছে এমন একটি উপাদান দিয়ে, যা বিস্ফোরণের সময় অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রার আগুনের গোলা তৈরি করতে পারে এবং একাধিক ধাপে ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করতে সক্ষম।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চীনা সামরিক বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) এই বোমার পরীক্ষাটি পরিচালনা করে। এর পেছনে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গবেষণা করেছে চীনের অন্যতম রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংস্থা চায়না স্টেট শিপবিল্ডিং কর্পোরেশনের ৭০৫ নম্বর গবেষণা ইনস্টিটিউট

পরমাণুবিহীন কিন্তু বিধ্বংসী

চীন এই হাইড্রোজেনভিত্তিক অস্ত্রটিকে ‘ক্লিন এনার্জি বোমা’ হিসেবে অভিহিত করছে। এটি একটি নন-নিউক্লিয়ার অস্ত্র, অর্থাৎ এর মধ্যে পারমাণবিক ফিশন বা ফিউশনের উপাদান নেই। তবে বিস্ফোরণের সময় এটি ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রা উৎপন্ন করতে পারে, যা অ্যালুমিনিয়ামের মতো ধাতুও গলিয়ে ফেলতে পারে

বোমাটির মূল উপাদান ম্যাগনেশিয়াম হাইড্রাইড, যা বিস্ফোরণের সময় হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে এবং সেই গ্যাস থেকেই আগুনের বিস্তার ঘটে। একটি স্বতঃসক্রিয় চক্রাকারে এটি আগুন ছড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে আগুনের পরিধি ও তীব্রতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েই চলে।

বিস্ফোরণের পেছনে চেইন রিঅ্যাকশন

এই বোমাটি যখন বিস্ফোরিত হয়, তখন এটি একটি শক্তিশালী রাসায়নিক চেইন প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। সেই প্রতিক্রিয়ার ফলে শুধু একটি বিস্ফোরণ নয়, বরং একাধিক স্তরের ধ্বংসাত্মক প্রভাব সৃষ্টি হয়। বিস্ফোরণের পর আগুন দুই সেকেন্ড পর্যন্ত অত্যন্ত তীব্রভাবে জ্বলতে থাকে, যার ফলে মানুষের বসবাসযোগ্য এলাকা, সামরিক ঘাঁটি কিংবা স্থাপনাগুলো মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

চীনা বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, এই বোমার মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকায় উচ্চ তাপমাত্রার তীব্র আগুন সৃষ্টি করে টার্গেট ধ্বংস করা সম্ভব, যেটা পরমাণু অস্ত্রের মতো পারমাণবিক বিকিরণের ঝুঁকি সৃষ্টি করে না।

ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এই সফল পরীক্ষা কেবল একটি প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং একটি ভূ-রাজনৈতিক বার্তাও। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার অংশ হিসেবে এই বোমা চীনকে আধিপত্য বিস্তারে নতুন সুবিধা দেবে।

অনেক সামরিক বিশ্লেষক এই নতুন প্রযুক্তিকে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। এটি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য নয়, বরং ভূ-কৌশলগত চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।

'ক্লিন এনার্জি অস্ত্র' না ভয়ংকর ধ্বংসযন্ত্র?

চীন সরকার এই বোমাটিকে ‘ক্লিন এনার্জি অস্ত্র’ বলে তুলে ধরছে, কারণ এটি পারমাণবিক নয় এবং তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়ায় না। তবে এর বিশাল ধ্বংসক্ষমতা ও ব্যবহার পদ্ধতি দেখে অনেকেই এটির নৈতিকতা ও ব্যবহারিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা ইতোমধ্যে এই পরীক্ষার খবর গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের অস্ত্র যদি বড় আকারে উৎপাদন ও রপ্তানি শুরু করে চীন, তাহলে এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন সংকটের সূচনা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency